রেজি তথ্য

আজ: রবিবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

স্বাধীনতার মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ তোমায় অভিবাদন -আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম

পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে নিজেদের মুক্ত স্বাধীন জাতি হিসেব আত্মপরিচয় খুঁজে পাবার দিন ২৬মার্চ। যিনি আমাদের আত্ম মর্যাদা নিয়ে স্বাধীনতার পথে চলতে শিখিয়েছেন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। যুগে যুগে স্বাধীনচেতা বিপ্লবী অনেক মহাপুরুষই বাংলার বুকে জন্ম নিয়েছিল, যারা দুঃশাসন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুনে ঝলসে ওঠেছিল। বাংলাকে ভালবেসে, বাংলার মানুষকে ভালবেসে আত্মবলিদানের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। বাংলা মায়ের অনেক বীর সন্তানেরা। অনেক কবি, সাহিত্যিক লেখক তাঁদের লেখনীতে বাংলার প্রতি নিবিড় ভালবাসা ও মমত্ববোধের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন। একটি জাতিসত্বার জাগরণে এ বীরত্ব ও মমত্ববোধ প্রেরণা হয়েই রয়েছে। কিন্তু, বাঙালির জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম পৃথক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে সমগ্র জাতিকে জাগিয়ে তোলার কাজটিই করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তিনিই ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তির পথে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন, বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষকে জয় বাংলা শ্লোগানে লাল সবুজের পতাকাতলে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে মুক্তিপাগল জাতিতে পরিনত করেছিলেন। স্বাধীনতার পথে চলতে গিয়ে, মুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের দিকে বাঙালি জাতিকে টেনে আনতে গিয়ে ইংরেজ ও পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে তিনি তাঁর জীবন ও যৌবনের প্রায় তের বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন। কিন্তু, কোন শক্তিই তাঁকে স্বাধীনতার পথ থেকে সরাতে পারেনি। শুধু তিনি নিজে নন, বাংলার সর্বস্তরের মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে এমনভাবে দীক্ষিত করেছিলেন যাতে বাঙালি স্বাধীনতার জন্য তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে এতটুকুও দ্বিধাবোধ না করে। তাই, ১৯৭১ এর ৭মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে বুক চেতিয়ে তর্জনী উঁচিয়ে দম্ভোক্তি করতে পেরেছিলেন; আমরা যখন মরতে শিখেছি, কেউ আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবেনা। ৭মার্চের ভাষনে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষনা না দিলেও তিনি বলেছিলেন; আর যদি একটা গুলি চলে, যদি আমার লোকদের উপর হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।
২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করলে ২৬মার্চ প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধু ইপিআর বার্তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন এবং যতক্ষন পর্যন্ত একজন বাঙালিও বেঁচে থাকবনে ও একটি পাক হানাদারও বাংলার মাটিতে থাকবে, বাংলার মাটি থেকে পাকিস্তানী সৈন্যদের চিরতরে উৎখাত করা না হবে ততক্ষন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। স্বাধীনতা ঘোষনার পরপরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলেও, ততক্ষনে সারাদেশে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ স্বাধীনতার যুদ্ধে পরিনত হয়। বাংলার মুক্তিপাগল কৃষক, শ্রমিক, কুলি, মজুর, তাঁতী, ছাত্র, যুব জনতা মরণ পণ করে দলে দলে যুদ্ধে যোগদান করে; গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। জয়ের নেশায় হাঁসিমুখে মৃত্যুকে পায়ে দলে বীর মুক্তিসেনা এগিয়ে চলে সমূখের স্বাধীনতার সূর্য পানে।
দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ডিসেম্বর পাকিস্তানীদের আত্ম সমর্পনে বাধ্য করে গৌরবময় বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনে বীর বাঙালি। আজ স্বাধীনতার ৫০বছর পেরিয়ে বাঙালি জাতির জনকের কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে পেরেছি। উন্নয়ন আর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিষ্ময়। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক যে কোন সূচকে আমরা পাকিস্তাানকে অনেক পিছনে ফেলে উন্নত বিশ্বের অন্যতম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের দিকে এগিয়ে চলছি অদম্য গতিতে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের মাহেন্দ্রক্ষনে, বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে, গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি ৭৫এর ১৫ আগষ্ট কালো রাত্রিতে ঘাতকের হামলায় নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবার ও স্বজনদের, স্মরণ করি কারাভ্যন্তরে ঘাতকের ব্রাশ ফায়ারে নিহত জাতীয় চারনেতাসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। কৃতজ্ঞতা জানাই সকল বীর মুক্তি সেনা ও দেশের প্রয়োজনে সম্ভ্রম হারা সকল মা বোনেদের প্রতি। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি-দেশমাতার প্রতি স্বাধীনতার অভিবাদন জানিয়ে আজকের লেখায় এখানেই ইতি টানছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।
লেখক: রাজনীতিবিদ ও উন্নয়ন সংগঠক
কোষাধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ
সাবেক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি , চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মাবিয়া-রশিদিয়া ফাউন্ডেশন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০