রেজি তথ্য

আজ: মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

রাতে ভোট চুরি দিনে দূর্নীতিতে মহারাজা তাঁরাই বলে নীতিবাক্যের সংবিধানের কথা- মির্জা ফখরুল

ডেক্স নিউজ

  জণগণ আবারও নতুন সংবিধান রচনা করবে।

আওয়ামী লীগ সংবিধানকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলেছে। নিজেদের ইচ্ছা মতো সংবিধান তৈরি করেছে, এ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে না। আগামীতে জনগণ নতুন সংবিধান রচনা করে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনবে।
রবিবার (২৭ মার্চ) বিকালে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুর ১ টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগির  মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর দুই নাম্বার গেইট বিপ্লব উদ্যানে পুষ্প স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।
পরে বিএনপির মহাসচিব চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রে পুষ্প স্তবক অর্পণ করতে   কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ।
মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক, তারা আমাদের টাকায় চলে। তারা এখন যে শিষ্টাচার বহির্ভূত কথা বলছে তা বন্ধ করতে হবে। না হলে এই দেশের জনগণ ছাড় দিবে না। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি বন্ধ করতে হবে। গুম খুন বন্ধ করতে হবে, না হলে এখন যেভাবে বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা আরো আসবে। তখন কারো রক্ষা হবে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। জিয়াউর রহমানকে মুছে ফেলা যাবে না, তিনি আমাদের হৃদয়ে আছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় শেষ, যতই ঘুরপাক খান, শেষ রক্ষা হবে না। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুতে বললো ভোট দিবে না ইউক্রেনকে, যখনই আমেরিকার একজন ধমক দিল তারা ইউক্রেনকে ভোট দিল। এই আওয়ামী লীগের কোন চরিত্র নাই।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে তিন বছর ধরে কারাগারে রেখেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রেখেছে। ৩৫ লাখের নেতাকর্মীদের উপর মামলা, হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে খুন করেছে, এ নিষেধাজ্ঞা জাতির জন্য লজ্জাজনক, এর জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, তাই আর বিলম্ব নয়, একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে এ সরকারের পতন ঘটানো। আসুন সকল রাজনৈতিক দলকে, জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।
তিনি সমাবেশ থেকে নতুন মুক্তিযুদ্ধ শুরু করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রতি বছর ২৭ মার্চ এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান যে দুটি কাজ করেছেন তার একটি বিদ্রোহী ঘোষণা করেছেন আরেকটি পাকিস্তানীদের হত্যা করেছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের এত গাত্রদাহ, কারণ সেদিন তারা আত্মসমর্পণ করেছে, আর সেদিন জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটেছে। যেখানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে সেখানে জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সম্মুখ যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, এখানে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই, সেদিন সকল বিদেশি মিডিয়া তে প্রকাশিত হয়েছে, মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা। আওয়ামী লীগ নেতাদের বইতেও শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার কথা লিখা হয়েছে বলেন আমির খসরু।
আমির খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ জানে, আজকে যদি আমরা কালুরঘাট যেতাম তাহলে এর চেয়ে বেশি সমাগম হতো। আজ থেকে প্রত্যেক বছর মুক্তিযুদ্ধের সূচনা দিবস পালন করা হবে, আগামী বছর থেকে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের সামনে করা হবে। এত বাঁধা বিপত্তি পরও এত লোক হয়েছে, আগামীতে যে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা দিবস পালন হবে তাতে তাদের গাত্রদাহ, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করছে।
আমরা করলে প্রতিটি সেক্টরে আমাদের নেতাদের অবদান হবে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা যেভাবে হয়েছে, এই সরকারের পতন ও এখান থেকে হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে স্পীড তা আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের আত্মাকে বিক্রি করে দিয়েছে, এ আত্মাকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন টেক ব্যাক বাংলাদেশ।
সমাবেশে প্রধান বক্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যেতে দেয় নাই, কারণ আওয়ামী লীগ ভয় পায়। স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস যখন জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাই, তখন তারা বাঁধা দিয়েছে, কারণ তারা জনগণের কাছে সঠিক ইতিহাস জানাতে চাননা। ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন একটি ২৬ মার্চ, তৎকালীন মেজর জিয়া স্বাধীনতার সূচনা করেছে এই দিনে। সে তথ্য জনগণ জানতে পারলে তাদের ব্যর্থতার কাহিনী তুলে আসবে বলেই সমাবেশ করতে দেয়া নাই‌‌ । ইতিহাসের সত্য কথা বলতে গেলে আওয়ামী লীগের গা জ্বলে। দেশের মানুষের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সূবর্ণ জয়ন্তী কমিটি।
তিনি বলেন, লুটপাট করে ৭৩ সালে দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল, রক্ষীবাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। ওয়ান ইলেভেনের সরকার তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারা প্রতিটি সেক্টর ধংস করে দিয়েছে। মধ্যবিত্ত মানুষ আজ দিশেহারা, আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট এর সাথে জড়িত, তাই তারা এ সংকট নিরসন করতে পারছে না।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে, তার জন্য এ স্বৈরাচার সরকারকে হঠাতে। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এ চট্টগ্রাম থেকে হয়েছে, একইভাবে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনও এ চট্টগ্রাম থেকে হবে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২৫-২৬-২৭ মার্চ আওয়ামী লীগের কোন ইতিহাস নেই, আছে শুধু শহীদ জিয়ার ইতিহাস আর সাধারণ মানুষের ইতিহাস। আমি মেজর জিয়া বলেন বিদ্রোহ করার পর মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতন ঘটানো হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর নাছির উদ্দিন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবেদীন ফারুক, গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, হারুন অর রশিদ, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বদরুল আনোয়ার, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইসমত আজিজ উলফাত, ফেনী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাল উদ্দিন আলাল, লক্ষীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান তালুকদার, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন ও বান্দরবান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা প্রমুখ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১