রেজি তথ্য

আজ: শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

বান্দরবানে সাজিনা ডাঁটার সমাহার – কৃষক স্বাবলম্বী

বাবুল খান, বান্দরবান :
সদর উপজেলার  চিম্বুক সড়কের দুপাশে ম্রো ও বম জনগোষ্ঠির বসতবাড়ির আশপাশে  জুম চাষের পাহাড়ে সারি সারি সজিনা গাছ। সজিনা ডাঁটা শুধু সবজি নয়  ভেষজ ও বটে। সাধারণত সজিনায় কমলা লেবুর সমপরিমাণ ভিটামিন সি, গাজরের চেয়ে ১.৩ গুন বেশী ভিটামিন-এ,কলার চেয়ে ১.৫গুন বেশী পটাশিয়াম,আমন্ড বাদামের চেয়ে ৩গুন বেশী ম্যাগনেশিয়াম,দুধের চেয়ে ৩.৫গুণ বেশী ক্যালসিয়াম আছে বলে জানা যায়।
শুধু সজিনা ডাঁটা নয় সজিনার কচি পাতাও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়।  পার্বত্য এই জেলায়  উঁচু উচুঁ পাহাড়ী এলাকায়  দিন দিন সজিনা চাষের আবাদ বৃদ্ধি হচ্ছে। সজিনা গাছের তেমন পরিচর্যা দরকার পড়ে না। শুধু চারা রোপণ করলেই পরিচর্যা ছাড়াই   বৃদ্ধি পায় আবাদ।
চিম্বুক  নোয়াপাড়ার চিংচং ম্রো জানান,গত বছর ৫মণ,এবছর ২০মণ পাবেন। গতবছর প্রতি মণ ৫হাজার এবছর প্রতিমণ ৫হাজার ২শত টাকায় ব্যবসায়ীদের থেকে বিক্রি করেছেন। জুম চাষের জায়গায় ৫-৬বছর  আগে ১৫০টি চারাগাছ লাগিয়েছেন। গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ভালো ফলন হয়েছে।সজিনা ডাটা সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে রেখে দিলেই ব্যবসায়ীরা গাড়ী ভর্তি করে নিয়ে যান। পাড়ায় প্রায়  ১০-১৫টি পরিবারের সজিনা গাছ আছে। সবজি হিসেবে তরকারীও খাওয়া যায় এবং ভালো দামে বিক্রিয় যায় বলে জানিয়েছেন।
ইন চং ম্রো বলেন, প্রতিবছর সজিনা ডাঁটা সংগ্রহ করার সময় যে ডাল কাটা হয় সেই ডাল রোপন করলে ২-৩বছরের মধ্যে সজিনা ডাটা ধরতে শুরু করে। চেয়ারম্যান পাড়া, বসন্ত পাড়া, নোয়া পাড়ায় জুম চাষীরা সজিনা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন এই চাষী ।
ব্যবসায়ী আব্দুল মাবুদ বলেন, ৩০বছর ধরে চিম্বুক- নীলগিরি এলাকায় বিভিন্ন মৌসুমী সবজীর ব্যবসা করে আসছি। এলাকার সবজী চাষীদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরী হয়েছে প্রতি মণ ৫হাজার ২শত টাকায় ধরে  ক্রয় করে। সপ্তাহে একবার সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। প্রতি ট্রাকে কমপক্ষে একশমণ করে পাঠানো হয়।  শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন,লেং নোই ম্রো, তুম্পাও ম্রো সহ ৮-১০জন নারী শ্রমিক সজিনা ডাটা সংগ্রহ করে প্রতিজন  দৈনিক ৫শত টাকা করে মজুরী পেয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন।
বান্দরবান কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম  বলেন, সজিনা আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  গত বছর ২২হেক্টর সজিনা আবাদ ছিল চলতি বছর ২৫হেক্টর জায়গায় সজিনা আবাদ হয়েছে। গত বছর ৪৪ মেট্রিকটন উৎপাদন হয়েছিল, চলতি বছরে ৭৫ মেট্রিকটন উৎপাদনের আশা করছেন বলে জানিয়েছেন।
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১