রেজি তথ্য

আজ: সোমবার, ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সীতাকুণ্ডে বাঙালির ঐতিহ্য মাটির শিল্প কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে

এম ইব্রাহিম খলিল,সীতাকুণ্ড :

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাল পাড়ায় মৃৎ শিল্পের খ্যাতি ছিল । স্বল্প মূলধন এবং স্বল্প পরিসরের শিল্প হল কুটির শিল্প যা কুটিরে বসে প্রস্তুত করা যায়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম, চীনা মাটি, মেলা-মাইন এবং বিশেষ করে সিলভারে রান্নার হাড়ির প্রচুর উৎপাদন ও ব্যবহারের ফলে মৃৎশিল্প হারিয়ে যাচ্ছে।এই মৃৎ শিল্প প্রায় দুই থেকে তিন শত বৎসর পূর্ব থেকে চলে আসছে। মৃৎশিল্পের সাথে গ্রাম বাংলার মানুষের অর্থনিতি জড়িত। চট্টগ্রাম জেলার এই মৃৎ শিল্পের খ্যাতি ছিল। অতীতে এমন দিন ছিল যখন গ্রামের মানুষ এই মাটির হাঁড়ি কড়া,কলশি, সরা,বাসন মালসা,গরু খদ্য খেতে দিত গাবলা করে দৈনন্দিন ব্যবহারের সমস্ত উপকরণ মাটির ব্যবহার করত: বদলে যাওয়া পৃথিবীতে প্রায় সবই নতুন রূপ। নতুন সাজে আবার নতুন ভাবে মানুষের কাছে ফিরে এসেছে। গ্রাম বাংলার নয় শহরের শিক্ষিত সমাজ ও মাটির জিনিস ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এখন মানুষের রুচি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিত্য নতুন রূপ দিয়ে মৃৎ শিল্পকে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করছে মৃৎ শিল্পিরা। এসব সামগ্রী গুলো মাটির ব্যাংক, রঙিন ঘোড়া, নানা রঙ্গের পুতুল, নানা ধরনের পাখি, সুন্দর ফুলের টবসহ ফুলগাছ ফুলদানি।
পাল পাড়ায় এক সময়ে কুমার পট্টিতে ছিলও মাটির তৈরি পণ্য সামগ্রীর সমাহার। রাস্তার দু পাশে মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল সহ অন্যান্য শুকাতে দিত । মাটি দিয়ে তৈরি পণ্য বিক্রেতাদের বলা হতো কুমার। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করে কোনরকম নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছে। প্রায় এক শ’ বছরেরও বেশী সময় ধরে তার পূর্ব পূরুষরা এই ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিক এবং সিলভার সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে।দেশের নানা স্থান থেকে এখানে পাইকাররা আসতো মাটির সামগ্রী ক্রয় করতে। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। ব্যবসা মন্দার কারণে মৃৎ শিল্প প্রস্তুতকারী ১০টি পরিবার নিয়োজিত আছে অনেকে অন্য ব্যবসায়। এখন হাতে গোনা কয়টি পরিবার মৃৎ শিল্প প্রস্তুতের সাথে জড়িত আছে। পৌর শহরতলির ইদিলপুরে কয়টি পরিবার রয়েছে। মৃৎ শিল্পীরা যেসব দৃষ্টি নন্দন মাটির সামগ্রী তৈরি করে থাকে তার মধ্যে রয়েছে মাটির কলস, হাঁড়ি, পাতিল, সরা, মিষ্টির পাতিল, রসের হাঁড়ি, ফুলের টব, চাড়ার টব, জলকান্দা, মাটির ব্যাংক, ঘটি, খোঁড়া, বাটি, চাকা, প্রতিমা ইত্যাদি। সরেজমিন মৃৎ শিল্পীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা মাটি দিয়ে তৈরী করে শুকিয়ে সাজে দিয়ে কুন্ডলি বনিয়ে নিচে দিয়ে কাঠ দিয়ে পোড়ানো হয়। পোড়ানোর পরে লাল মাটি ও রং দেয়া হয়। এই লাল মাটি,আংটেল মাটি তাদের কিনতে হয় । মৃৎ শিল্পীরা জানায়, বর্তমানে কাঠের মাটির দাম অনেক
বেশি হওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তার উপরে বাজারে মাটির পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাদের এই ব্যবসাই এখন হুমকির মুখে । এ ব্যবসা তারা ধরে থাকবেন কিনা এ নিয়ে নিজেরাই রয়েছেন সংশয়ে। সরকারের কোন সংস্থা যদি তাদের সহযোগিতা করে তাহলে তারা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন বলে জানান মৃৎ শিল্পীরা। হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান পরিতাপের বিষয়, মাটির তৈরি জিনিস আগের মতো আর আমাদের চোখে পড়ে না। বাঙালির ঐতিহ্য মাটির শিল্প যেন দিন দিন কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে।মাটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহারে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে মৃৎ শিল্পীদের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে পূনরুদ্ধার করা জরুরী , করোনা ভাইরাস এর প্রভাবে দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই শিল্প ।তার উপর দাদনচক্র ও কিস্তির টাকা নিয়ে দিশেহারা কুমাররা বা মৃৎশিল্পীরা ।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১