রেজি তথ্য

আজ: মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

৭ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের মহাসমাবেশ

রিয়াজুর রহমান রিয়াজ:

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ এর উদ্যোগে ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম নগরের সিআরবি শিরিষতলা চত্তরে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী দাবী আদায় ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সমন্বয়ক আছাদুর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে এবং মোঃ আনোয়ারুল আজিম সবুজের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মূখ্য সমন্বয়ক মোঃ ওয়ারেছ আলী, মোঃ লুৎফর রহমান , মোঃ নিজামুল ইসলাম ভূঁইয়া মিলন , মোঃ আনারুল ইসলাম তোতা , মোঃ ইব্রাহিম খলিল , মোঃ আনিছুর রহমান , মোঃ জিয়াউল হক , শাহ্ মোঃ মামুন , খায়ের আহম্মেদ মজুমদার , মোঃ মাহমুদুল হাসান , মোঃ গাজিউল ইসলাম , মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী রবিউল , সাইফুল ইসলাম , জনাব কাবুল মোল্লা , মোঃ আব্দুল হালিম , মোঃ মোফাজ্জল হোসেন , মোঃ মোজাহারুল ইসলাম , মোঃ আব্দুর রাজ্জাকসহ কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । সমাবেশে বক্তারা বলেন – ১৯৯৫ সালে সচিবালয়ে উচ্চমান সহকারী , প্রধান সহকারী শাখা সহকারী ও বাজেট পরীক্ষকদের পদবী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সাঁট লিপিকারদের পদবী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা করে সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাহিরে কর্মচারীদের মধ্যে পদবী ও বেতন বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে । বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর কন্যা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সকল দপ্তর , অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় , জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পদবী পরিবর্তন করার বিষয়টি বৈষম্য নিরসণ না করে পুনরায় বৈষম্যর কঠিন বেড়াজাল তৈরি করা হয়েছে, যা কোন ভাবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যাশিত নয় । বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কর্মচারীদের মধ্যে পুনরায় পরী বৈষম্য বেড়াজাল সৃষ্টি করায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্বে সকল দপ্তর অধিদপ্তরের কর্মচারীদের পদনাম পরিবর্তন করে বেতন ও পদবী বৈষম্য দূর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত আহ্বান জানান । ৭ দফা দাবীগুলো হলো- পে – কমিশন গঠন পূর্বক ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে । পে – স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বে অন্তবর্তীকালীন কর্মচারীদের জন্য ৫০ % মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করতে হবে ।১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ ধাপে বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পে – কমিশনে কর্মচারী প্রতিনিধি রাখতে হবে । সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তর , অধিদপ্তরের পদনাম পরিবর্তনসহ ১০ম গ্রেডে উন্নীত করণ এবং এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রনয়ণ করতে হবে । টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহাল সহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহল , বিদ্যমান গ্রাচুইটি / আনুতোষিকের হার ৯০ % এর স্থলে ১০০ % নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আপীল বিভাগের রায় বাস্তবায়নসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন নিয়োগ বিধি – ২০১৮ এর ভিত্তিতে ১০ম থেকে উন্নীতকরণ । আউট সোর্সিং পদ্ধতি বাতিল পূর্বক উক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত ও উন্নয়ন খাতের কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তর করতে হবে । ব্লক পোষ্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সকল পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে ।বাজারমূল্যের উর্দ্ধগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সমন্বয় পূর্বক সকল ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ করতে হবে । চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে । আগামী ২০ মে এর মধ্যে উল্লেখিত দাবীসমূহ মেনে নেয়া না হলে ২৭ মে শুক্রবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচী ঘোষনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমাবেশ থেকে বক্তারা । সমাবেশে যেসকল সংগঠন উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি , বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদ , বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ , বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেনী সরকারী কর্মচারী সমিতি , বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন , বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী সংহতি পরিষদ , বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সরকারি কর্মকর্তা – কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ , বাংলাদেশ পোষ্টম্যান ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন , বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্মচারী কল্যাণ সমিতি , ১০ , ১১-২০ গ্রেডের সরকারী চাকুরীজিবিদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম , বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রজতন্ত্রের সকল স্তরের সম্মানিত কর্মচারীগণ । সভাপতির বক্তব্যে আছাদুর রহমান জুয়েল বলেন, ১১ থেকে ২০ গ্রেডের বঞ্চিত লক্ষ লক্ষ কর্মচারীদের দাবীর বিষয় বিবেচনা না করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নয় । এসকল দাবী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান , সাংবাদিক সম্মেলন , মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে আবেদন নিবেদন করা হয়েছে । বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য মহান জাতীয় সংসদে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তদুপরি সরকারের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হয়নি । আজকের এই চট্টগ্রাম বিভাগের সমাবেশ থেকে ৭ দফা দাবীসমূহ মেনে নেওয়ার জন্য তিনি মানবতার মা , জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারো জোর দাবী জানান।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১