রেজি তথ্য

আজ: বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

নিলাম অযোগ্য ১৮৮ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস না করেই লুটপাটের চলছে গোপন আয়োজন!

কামাল পারভেজ :

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম কাস্টমসে আবারও শুরু হচ্ছে নিলাম অযোগ্য পণ্যের ধ্বংস কার্যক্রম। আগামী সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে ১৮৮ কন্টেনার বিভিন্ন ধরণের পণ্য ধ্বংস করবে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ধ্বংসের স্থানও চূড়ান্ত হয়েছে। তবে নিলাম অযোগ্য পণ্যগুলো ধ্বংস না করে গর্তে পুঁতে ফেলে পুনরায় তা মাটি থেকে তুলে বিক্রির আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নিলাম শাখা সূত্রে জানা যায়, নগরীর হালিশহরের আনন্দবাজার বে টার্মিনাল সংলগ্ন স্থানে ধ্বংস কার্যক্রম চালানো হবে। ধ্বংসের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি সপ্তাহের মধ্যে। ধ্বংসযোগ্য ১৮৮ কন্টেনার পণ্যের তালিকায় রয়েছে-অ্যানিমেল ফিড, পেঁয়াজ, ফিস ফিড, কানাডিয়ান ক্যানুলা, মিট অ্যান্ড বোন মিল, আপেল, মাল্টা, ম্যান্ডারিন, মাছ, বিভিন্ন ধরনের শস্য বীজ এবং লিকুইড ড্রিংকস।
এবারের ধ্বংস তালিকায় থাকা এনিমেল ফিড এবং ফিশ ফিড রয়েছে, যেখানে ঘোষণা বহির্ভূত আমদানি নিষিদ্ধ মিট এন্ড বোন মিল (শুকর বর্জ্য) থাকার প্রমাণ পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্য খালাস দেয়নি। এসব পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব নয় বিধায় সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। এছাড়া নিলামে তোলার পরও যেসব পণ্য বিক্রি হয় না কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায় সেগুলোও ধ্বংস করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার রিমুভাল লিস্ট ( আরএল) এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য চালানের কায়িক পরীক্ষা প্রতিবেদনে সরবরাহকারী দেশের তথ্য পাওয়া যায়নি। একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানিয়েন, শুকুরের বর্জ্যগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ নয়। সেগুলো মাটি চাপা দিলে যে কোন সময় তা মাটি থেকে তুলে পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি কন্টেইনারে সাধারণত ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন পণ্য থাকে। সেই হিসেবে ধ্বংসতালিকায় থাকা ১৮৮টি কন্টেইনারে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রয়েছে। নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, আমদানীকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। অন্যদিকে আমদানিকারক যথাসময়ে পণ্যভর্তি কন্টেনার খালাস না করলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটে। এক্ষেত্রে পচনশীল পণ্যভর্তি কন্টেনার একটি বড় সমস্যা। খালাস না হওয়া এসব কন্টেনার শিপিং কোম্পানির জন্যও বিপদের। কারণ এসব কন্টেনারে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। আমদানিকারক খালাস না নিলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ চাইলেও বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, নিলাম অযোগ্য পণ্য বন্দরের জন্য একটি বিশাল সমস্যা। অনেক সময় আইনি জটিলতায় নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করতে পারে না কাস্টমস। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে এসব কন্টেনারের জন্য জট লেগে যায়। নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমসে স্থায়ীভাবে একটা স্থান নির্ধারণ করা উচিত। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার কর্মকর্তারা বলেন, স্থান নির্ধারণের জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা নিলাম কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা স্থান নির্ধারণ করতে পেরেছি। আমরা সর্বশেষ একটি মিটিং করেছিলাম। আশা করি আমরা দ্রুত ওই ১৮৮ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস করতে পারবো। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখা সূত্র জানান , খালাস না হওয়া নিলাম অযোগ্য পণ্য ধ্বংস কার্যক্রমের জন্য কেডি শিপিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এই ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী ধ্বংস কার্যক্রমে যে টাকা ব্যয় হবে সেগুলো কেডি শিপিংকে কন্টেইনারের সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট বহন করবে। কে ডি শিপিংয়ের পরিচালক আবু জহুরকে নষ্টপণ্যগুলোর অসচ্ছভাবে বিনষ্টিকরণের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, চসিকসহ সংশ্লিষ্টরা জায়গা পরিদর্শন করে অনুমতি দিয়েছেন।
বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করছে, ধ্বংস না করে সম্পূর্ণ প্যাকেজিং অবস্থায় ব্যবহার অযোগ্য, পচা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলো মাটি চাপা দেওয়ার আয়োজন করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ। এসব পণ্যগুলো গর্তের মধ্যে বস্তাভর্তি থাকায় সেখান থেকে চুরি করে নিয়ে যাবে একটি চক্র। এর আগেও একই কায়দায় মাটি চাপা দেওয়া পণ্য চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বস্তায় বস্তায় ফেলে দেওয়া পচনশীল পণ্য আবারো কাভার্ডভ্যানে ভর্তি করে নূরুল কবির মিঠু, আব্দুল মান্নান, মঞ্জুর আলমের সিন্ডেকেটের ১০ থেকে ২০ জনের একটি দল স্কেভেটরের সাহায্যে প্রতিদিন তুলে নিয়ে যাবেন ধ্বংসযোগ্য পণ্যগুলো।
সূত্র দাবি করছে ,রফিক ও ওসমানের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতিদিন গভীর রাতে কাভার্ডভ্যানে করে পাচার করবে সরকারি নিলামের ধ্বংসযোগ্য এসব পণ্য। প্রতিদিন ইফতারির সময় ও রাত আড়াইটা থেকে ভোর পর্যন্ত সেখানে চলবে পণ্য চুরির মহোৎসব। উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত বছরের জুনে নগরীর উত্তর হালিশহরের বে টার্মিনাল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় ২৯৮ কন্টেনার পণ্য ধ্বংস করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এবিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন উপ -প্রধান কর্মকর্তা মোরশেদুল আলমের মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১