রেজি তথ্য

আজ: মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ কমিটি: চলছে নেতৃত্বের লড়াই

রিয়াজুর রহমান রিয়াজ:

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় পুরাতনের চেয়ে নতুনরা বেশী। রয়েছে বর্তমান কমিটির বাইরে থাকা এবং বিভিন্ন কলেজে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নাম। আগামী মে মাসের যেকোন দিন চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সম্মেলন হবে বলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গত ২ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মহানগর যুবলীগের পদ প্রত্যাশী নেতারা তাদের জীবনবৃত্তান্ত কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিয়েছেন। যুবলীগের চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগর শাখার শীর্ষ দুই পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা পড়েছে ১০৮টি। বর্তমান কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়কসহ অনেকে সভাপতি/সম্পাদক পদে বয়সের কারণে পদে আসতে না পারায় নতুনভাবে আলোচনায় রয়েছে, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম দিদার, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম.আর.আজিম, চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, সুরঞ্জিৎ বড়ুয়া লাভু।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছে, মহানগর যুবলীগের সদস্য জাবেদুল আলম সুমন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ রাসেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সনত বড়ুয়া। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন বলেন, আমি যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও প্রতিটি এলাকায় হাজার হাজার নেতা কর্মীরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে বিধায় তৃণমূল নেতা কর্মীদের অনুরোধে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যুবলীগের চেয়ারম্যান মহোদয় যুবলীগকে একটি মানবিক সংগঠন হিসেবে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করেছে। নতুন পুরাতন সমন্বয়ে কমিটি করা দরকার বলে তিনি জানান। সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদের প্রত্যাশী দেবাশীষ পাল দেবু বলেন, আমি যুবলীগে কাজ করতেছি দীর্ঘদিন যাবত। আমাদের যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, করোনাকালে মানুষের পাশে দাড়াতে তখন থেকে আমরা সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে দাড়াতে। আমরা চিকিৎসা সেবা খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি যুবলীগের গৃহায়ন প্রকল্প সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি তৃণমূল পর্যায়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছে সে ধরণের ব্যক্তিদের দিয়ে কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটি উপহার দেবে আশা করি। দল আমাকে প্রেসিডেন্ট হোক সেক্রেটারি হোক যে গুরুদায়িত্ব আমাকে দিবে, আমি আমার পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যে মহানগর যুবলীগের ইউনিটকে বাংলাদেশের মধ্যে এক নম্বর ইউনিট হিসাবে দার করাবো। আশা করি সঠিকভাবে নেতৃত্ব পরিচালনা করলে সেটা করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী দিদারুল আলম দিদার বলেন, মহানগর যুবলীগের যে অচলাবস্থা এটাকে গতিশীল করতে হলে নতুন নেতৃত্ব দরকার। যুবলীগের যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের ব্যর্থতার দায় নিতে হবে, ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে যারা আবার যুবলীগের পদ পদবী নেয়ার জন্য তৎপর তাদের উচিত যুবলীগ ছেড়ে আওয়ামী লীগে জায়গা খুঁজার জন্য, তারা যেহেতু যুবলীগের জন্য কিছু করতে পারেনি তারা আবার দায়িত্বে আসলে তৃণমূল নেতা কর্মীরা মেনে নিবে না। যুবলীগের সভাপতি/সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে হওয়া উচিত এবং পরিবারের সবাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ হওয়া চাই। আমার পিতা মহানমুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বঙ্গবন্ধুকে যাকে চাচা বলে ডাকতেন তিনিও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে চাচা খালেক নামে খ্যাত আমি তারই সন্তান। আমি যুবলীগের দায়িত্ব পেলে যুবলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুবলীগকে একটি কর্মসংস্থান তৈরীতে সহায়ক ও বেকারমুক্ত যুবলীগ করার জন্য কাজ করে যাবে। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম বলেন, আমি দুঃসময় কাজ করার লোক, আমাদের প্রিয় নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কিন্তু আমরা মাঠে কাজ করেছি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন কম সংখ্যক কর্মীরাই কিন্তু মাঠে ছিল। তখন দুঃসময় আমরা অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই নগরব্যাপী সাংগঠনিকভাবে যাদের অবস্থান রয়েছে, প্রত্যেকটি ওয়ার্ড লেভেল যারা সংগঠনকে মজবুত করতে পারবে, নগর যুবলীগে এধরণের নেতৃত্বই আশা করছি।

এদিকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশ জানান, রাজনৈতিক দিক থেকে চট্টগ্রাম বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকা৷ সুতরাং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছ থেকেও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে৷

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয় কেন্দ্র। ঐ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মহিউদ্দিন বাচ্চুকে। চারজনকে যুগ্ম আহ্বায়করা হলেন- দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহাবুবুল হক সুমন ও দিদারুল আলম। কমিটির মধ্যে এ.বি.এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুসারীদের আধিপত্য থাকলেও শুধুমাত্র আ.জ.ম নাছিরের অনুসারীরা স্থান পান মাত্র ৭ জন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১