রেজি তথ্য

আজ: বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

বিল ভরাট করে বসুন্ধরা শপিং মল করা হয়েছে–প্রধানমন্ত্রী

অয়ন মোহাম্মদ, ঢাকা :

রাজধানীর পান্থপথে যেখানে বসুন্ধরা শপিং মল নির্মাণ করা হয়েছে সেটি ছিল একটি বিল। সেই বিল ভরাট করেই বসুন্ধরা শপিং মল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজৎরবিবার দুপুরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নবনির্মিত ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সরকার প্রধান একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসকল ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন করেন।

বসুন্ধরা শপিং মল এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বসুন্ধরা শপিংমলে যখন আগুন লাগে, তখন সেই আগুন নির্বাপনের তেমন কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। বসুন্ধরা সিটি পান্থপথে হয়েছে। আসলে ওখানে ছিল খাল। সেই খাল নদীর সাথে সংযুক্ত ছিল এবং নৌকাও আসতো। ওই এলাকাটা ছিল বিশাল বিল এলাকা। সেই বিল এলাকাটাকে ভরাট করে আর খালগুলো বক্স কালভার্ট করার ফলে বসুন্ধরায় যখন আগুন লাগল যে বিল্ডিং গড়ে উঠেছে একটি বিলের ভেতর, সেই ভবনে আগুন নেভাবার এবং পানি দেওয়ার ব্যবস্থা নাই। পানি আনতে হয়েছিল হোটেল সোনারগাঁ থেকে। সোনারগাঁও হোটেলের সুইমিং পুল থেকে পানি এনে আগুন নেভানো হয়। এটাই হচ্ছে আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। ‌ তখন অগ্নিনির্বাপণের জন্য মাত্র চার তলা পর্যন্ত পানি দেয়ার সুযোগ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অবশ্যই হতে হবে। ‌ সাথে সাথেই আমাদের দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। ‌ ফায়ার ফাইটার রাজা’তে আধুনিক প্রশিক্ষিত হয় আন্তর্জাতিক মানের হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফায়ার একাডেমী প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছি ‌ এখানেও একটা দক্ষ জনশক্তি দরকার। সেই লক্ষ্য নেই আমরা পদক্ষেপটা হাতে নিয়েছি ইতিমধ্যে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
যেখানে মাত্র ২০৪ টি ফর স্টেশন ছিল। অথচ জনসংখ্যা বেড়ে গেছে ১৬ কোটির উপরে সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম যে প্রত্যেকটা উপজেলা অন্তত একটি করে ফায়ার স্টেশন হবে। এছাড়া বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ফায়ার স্টেশন গড়ে তুলবো। এখন প্রায় ৪৫৬ ফিফার স্টেশন আমাদের আছে। আজকে আরো ৪০ টি ফায়ার স্টেশন উদ্বোধন করা হচ্ছে। ‌ আগামী জুনের মধ্যে আরো ৫৫ টি তৈরি হয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বসুন্ধরার অভিজ্ঞতার আলোকে যদি বলি, যারা আমাদের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে, আমাদের আর্কিটেক্ট যারা এবং প্রকৌশলী যারা বাজারের ডিজাইন করেন সবকিছু করেন, প্রত্যেককে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে কোন একটি প্রজেক্ট যখন তৈরি করেন তাহলে সেই জায়গায় সেই প্রতিষ্ঠান গুলোতে অগ্নিনির্বাপণের আধুনিক ব্যবস্থা আছে কিনা সেটি নিশ্চিত করতে হবে পাশাপাশি যদি কখনো আগুন লাগে সেটা নে বাবার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে হবে জলাধার গুলিকে সংরক্ষণ করতে হবে। বক্স কালভার্ট বা জলাধার ভরাট করে সবকিছু করা ঠিক না। ‌ যেখানে শুধু জলই ছিল যেখানে শুধু বিল ছিল আর সেখানেই একটি বিল্ডিং এর অগ্নি নির্বাপনের জন্য পানি পাওয়া যায় না ঢাকা শহরে অজস্র খাল-বিল পুকুর এর জায়গা বাংলাদেশ তাইতো এরকম। ভরাট করার আগে কথাটা মাথায় রাখা উচিত ছিল। অনেক সময় আগুন লাগলে কাছাকাছি পানি পাওয়া যায় না , পানি নিতে পারে না বলে আগুন তো আর বসে থাকে না। আগুনের গতিতে তীব্র। সেটা ফাইট করতে হলে যে জিনিস গুলো দরকার সেটাই যদি না পাওয়া যায় তাহলে ফায়ার ফাইটার কিভাবে কাজ করবে তাদের এত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। সেটা মাথায় রেখতে হবে। সেজন্য আমার অনুরোধ থাকবে প্রত্যেকটা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথবা যারা আমাদের যারা আর্কিটেক্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার তাদের অনুরোধ করবো যখন কোন প্ল্যান করবেন প্রজেক্ট প্রস্তুত করবেন বিভিন্ন মন্ত্রনালয় প্রজেক্ট তৈরি করে তাদেরকে অনুরোধ থাকবে ফায়ার সার্ভিসের জন্য জন্য বিশেষ সুবিধা থাকে সে বিষয়টা দেখতে হবে। অর্থাৎ তাদের গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা এবং পানি পাওয়ার ব্যবস্থা পানির প্রাপ্যতা যেন নিশ্চিত নিশ্চিত হয় সেটার ব্যবস্থা করতে হবে। জলাধার এবং বৃষ্টির পানি যাতে সংরক্ষণ করা থাকে সেই ব্যবস্থা টা নিতে হবে। প্রতিটি ভবনে এখন তো অনেক উচ্চ তলা ভবন হয় আমাদের এখন মাত্র 20 তলা পর্যন্ত ফায়ার ফাইটিং এর সব ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে আমি দেখতে পাই কেউ হয়তো শত তলা উঁচু ভবন করবে কেউ ৩০ তলা ৪০ তলা নানারকম প্লান করে বসে আছে। তোদের চিন্তা করতে হবে এখানে কখনো কোনো দুর্ঘটনা দেখা দিলে সেখান থেকে উদ্ধার কাজ করবার মতো সক্ষমতা আমাদের কতটুকু আছে, সেই চিন্তাটা করেই পরিকল্পনা নেয়া উচিত। অর্থাৎ প্রতিটি বিল্ডিং স্কুল আদালত অফিস শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র সিনেমা হল বিভিন্ন শিল্প-কারখানাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা টা একান্তভাবেই জরুরি। সেটা যেমন করতে হবে আবার আশেপাশে যেন জলাধার থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ‌ এটা নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই একান্ত ভাবে দরকার।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০