রেজি তথ্য

আজ: বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ঈদ আনন্দ ও ডিজে কালচার

এ এইচ এম মহিউদ্দিন

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে যদি জানতে চান- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কেমন দেশ? বেশিরভাগ লোক এক বাক্যে বলবে_ “মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড খুব খারাপ দেশ! মেয়েরা ছোট ছোট কাপড় পড়ে, ধর্ম-কর্মের কোন বালাই নেই”। কেউ কেউ এটাও বলতে কসুর করবে না যে “যত্রতত্রই ফ্রী মিক্সিং! মেয়েরা ছেলেদের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আসলে এসব বাংগালীদের নিতান্তই অজ্ঞতা। যাহারা সেসব দেশে থাকেন তাহারাই বলতে পারেন, সেখানে একটা নারী কতটা সুরক্ষিত। নারীদের টিজ করে পার পাওয়া সেখানে প্রায় অসম্ভব। আর এখানে কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিতে গিয়ে কত ভাইয়ের জীবন যেতে হয়েছে, খবরের ঝাঁপি ঘাটলে ভুরি ভুরি প্রমাণ মিলবে। কত বাবা যে এসব টোকাই, কিশোর মাস্তান দ্বারা নিগৃহীত হয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। শুধু মাত্রই রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাবে এদের লাগাম টানা যাচ্ছে না। এরা বিভিন্ন এলাকায় ঈদের আগের রাতে, বিয়ের গায়ে হলুদে উচ্চ ভলিউমে গান বাজনা করে মানুষের ঘুমের ব্যঘাত ঘটায়। যে দেশগুলো নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে এত ভুল ধারণা সে দেশগুলোর যুবকেরা কোনদিন এভাবে উচ্চ শব্দে অশ্লীল গান বাজিয়ে আনন্দ ফূর্তি করে না। বাংলাদেশের এই যুবকরা গান-বাজনার পাশাপাশি রাস্তায় মেয়েদের পেলেই নানান অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কটুক্তি করে। ঈদে-পার্বনে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথাও বেড়াতে বের হলে এদের উৎপাতে বিব্রত হতে হয়। ভাইয়েরা বোন নিয়ে, বাবারা মেয়ে নিয়ে, মায়েরা কন্যা নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে প্রায়শই অস্বস্তিতে পড়েন। অনেকেই রাস্তার এহেন পরিস্থিতি চিন্তা করে খুব একটা বের হন না। অনেকে এদের উৎপাতে বিরক্ত হয়ে প্রশাসনিক প্রদক্ষেপের কথা বলেন, কিন্তু সে বলা- বলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। মাঝে মধ্যে দু একটা পুলিশি এ্যাকশান দেখি, তবে সেইটা খুবই অপ্রতুল। পুলিশ সাধারণত এসব জামেলা এড়িয়ে যেতে চান। তাদের বক্তব্য যতটুকু পাওয়া যায়- এসব ডিজে পার্টিগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা দ্বারা মদদপুষ্ট। এলাকার গ্রুপিং রাজনীতির শক্তি বৃদ্ধির হাতিয়ার হল এসব টোকাই প্রকৃতির কিশোর গ্যাং। এদের অনেকেই ঈদ-পার্বনে আনন্দ করার জন্য স্হানীয় নেতাদের কাছ থেকে অর্থ পেয়ে থাকে। এলাকা কেন্দ্রীক শক্তি বৃদ্ধি ও ভোটের রাজনীতিতে এদেরকে কদর্য ব্যবহার করা যায়। ছোট একটা পিক আপ ভ্যান বা মিনি ট্রাকে ৩০- ৪০ জন হাই ভলিউমের ড্রাম বিটের তালে তালে উদ্দাম লাফাতে থাকে। যাহা ট্রাফিক বা নাগরিক আইনের কোন ব্যাখ্যায় সিদ্ধ নয়। তার উপর ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। রাস্তা ঘাটের লোকজন দারুন ভাবে বিরক্ত হন, অসুস্থ রোগী-বিশেষ করে হার্টের রোগীদের জন্য এসব ড্রাম বিট মরন বীণের মতই। বিটের শব্দে মাটি পর্যন্ত কেঁপে উঠে। ভুটান, মালদ্বীপ,নেপাল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও হিন্দুর সন্তানরাও এসব অপকর্ম করে বেড়ায় না। যাহা এ দেশের মুসলিম নামধারী যুবক- কিশোররা করে থাকে। পলিটিকাল হাই ব্রীডদের পাশাপাশি এক শ্রেণীর জ্ঞানপাপীরা এর জন্য কম দায়ী নয়। যাহারা দেশকে ডিইসলামাইজ ও ডিমোরালাইজ করতে চায়। মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরে কোন মেয়ে রাত ২টার সময়ও যদি রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যায় অযথা কেউ তাকে মুখের কথাটিও জিজ্ঞাসা করবে না। স্লাংগ ইউজ কিংবা অশ্লীল অংগ ভংগি তো পরের বিষয়। আর আরবদেশ সমুহের কানুন সম্পর্কে বাংগালী বেশ সজাগ।অনুরুপ ভাবে ইউরোপ আমেরিকাতেও এরকম অপসংস্কৃতির চর্চা, অন্যের অধিকার হরণ করার কোনো সুযোগ নেই। এক শ্রেণীর অপয়া, মতলববাজ এসব নষ্টামিকে ঈদের বিনোদন বলে হালাল করতে চায়, কুলাংগারগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আম জনতা বেশ ওয়াকিবহাল, কোমলমতি শিশু- কিশোরদের অপরিপক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বিশৃংল সমাজ ব্যবস্হা কায়েম করে সেখানে রাজত্ব করতে চায়।

পরিশেষে শিক্ষক হিসেবে অভিভাবকদের চাহিদার আলোকে একটা কথা বলে শেষ করছি,যাহারা এসব ডিজে পার্টি করছে তাদের বিশাল একটি অংশ ছাত্র। এ কোমলমতি ছাত্রদের মাঝে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জনের নিমিত্তে স্কুল কেবিনেট গঠনের যে মহান(?) উদ্দেশ্য নিয়ে বড় ভাই আর ব্রীড-হাইব্রিডের সম্মিলন স্কুলগুলোতে ঘটানো হয়েছিল। সে থেকে ছাত্রদের মাঝে “বড় ভাই কালচার” ডেভেলপ করেছে। শিক্ষকমন্ডলী মৃদু পানিশমেন্টের অধিকার অনেক আগেই হারিয়েছেন, তার উপর বড় ভাই আর এলাকার হোমরা ছোমরাদের আশির্বাদপুষ্ট ছাত্রদের শ্রেণী কক্ষে ধরে রাখা বেশ দুরূহ। কোন রকম পানিশমেন্ট বা ভর্ৎসনা কল্পনাও করা যায় না। পাছে…….!!
ফলাফল- শিক্ষক শ্রেণী কক্ষে আর ছাত্র-নেতৃত্ব বিকাশে বড় ভাইদের সাথে চা দোকানে। বড় ভাইদের কমন ডায়ালগ… কিছু হলে ভাইকে ফোন দিবি, কিছু লাগলে জানাবি, চালিয়ে যা ভাইয়া আছি, ওমুক স্যার বেশ বাড় বেড়েছে! তুই এই স্কুলের ভিপি! ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম এক ভিপিকে ইংরেজিতে “নলেজ” বানান লিখতে বলেছিলাম, “নোলাস”লিখেছিল……
শুদ্ধতার প্রত্যাশায়…

লেখক- প্রভাষক এ এইচ এম মহিউদ্দিন, শিক্ষক ও  মানবাধিকার কর্মী।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১