রেজি তথ্য

আজ: বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ

রাউজান প্রতিনিধি :

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউস ও কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। গত কয়েকদিন থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা নদীতে নৌকা আর বাঁশের ভেলার উপর দাঁড়িয়ে জাল ফেলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় ছিল।গতকাল ১৬ মে সোমবার ভোর সকালে বৃষ্টি শুরু হলে মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। সকাল থেকে শত শত নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রকারীরা উৎসব মূখর পরিবেশে ডিম সংগ্রহ করতে দেখা যায়। হাটহাজরী- রাউজান উপজেলার আজিমের ঘাট, কুমারখালী, নাপিতের ঘাটা,পুরালিয়া স্লুইসগেট, মাছুয়াঘোনাসহ হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা-মাছ ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারী রোসাঙ্গীর আলম, বাপ্পী বড়ুয়াসহ অনেকেই। পুরোদমে ডিম সংগ্রহের জন্য নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শত শত ডিম আহরণকারীরা নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলার দৃশ্য দেখা যায়। হালদা বিশেষজ্ঞ প্রফেসার আলী আজাদী জানান, সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত অমাবশ্যার জো’তে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসলে নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এতদিন ডিম না ছাড়লেও সোমবার ভোর সকালের দিকে মা মাছ নদীতে ডিম ছেড়েছে।রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জোনায়েদ কবির সোহাগ জানান, ভোর রাত থেকে নদীতে ডিম দিতে শুরু করেন মা মাছ। আমার বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করেছি।ইতিমধ্যে নদী থেকে সংগ্রহ করা ডিম গুলো জেলেরা হ্যাচারিতে নিয়ে সংরক্ষণ করেছে।সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। রাউজান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পীযুষ প্রভাকর জানান, হালদা নদী থেকে ডিম আহরণ করে নিরাপদে রেণু ফোটানোর জন্য রাউজান ও হাটহাজারী অংশে সরকারি ৪টি হ্যাচারিতে গোলাকার ও আয়তাকার মিলে মোট ১৫০টি ও আইডিএফ এর ১৫টিসহ সর্বমোট ১৬৫ সিমেন্টের কুয়া তৈরি আছে। এছাড়া রাউজানে ৩৪ গ্রুপে ৮৪টি কুয়া, হাটহাজারীতে ২৮ গ্রুপে ৮৩টি, ও আইডিএফ এর ৮টি মাটির কুয়াসহ এখন পর্যন্ত দুই পাড়ে ১৭২টি মাটির কুয়া প্রস্তুত আছে। তিনি জানান, এ বছর কি পরিমান ডিম সংগ্রহ হয়েছে তার সঠিক পরিমান এখনো হয়নি।তবে হালদা নদীতে বৃহ-শুক্র-শনি- রবিবার থেকে নমুনা ডিম ছাড়েন মা মাছ।ডিম সংগ্রকারীদের সাথে কথা বলে সঠিক পরিমান নির্নয় করা হবে।উল্লেখ্য যে, হালদা নদী থেকে গত বছর ২০২১ সালে ২২মে প্রায় ৬৫০০কেজি,( ২০২০) সালে ২৫৫৩৬ কেজি, ২০১৯ সালের ২৫ মে প্রায় ১০ হাজার কেজি, ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল ২২৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল ১৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালের ২ মে ৭৩৫ কেজি, ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল ও ১২ জুন ২৮০০ কেজি, ২০১৪ সালের ১ মে ১৬৫০০ কেজি, ২০১৩ সালের ৫ মে ৪২০০ কেজি, ২০১২ সালে ৮ এপ্রিল ২১২৪০ কেজি, ২০১১ সালে ১৮ এপ্রিল ১২৬০০ কেজি, ২০১০ সালে ২২ মে ৯০০০ কেজি ও ২০০৯ সালে ২৫ মে ১৩২০০ কেজি ডিম আহরণ করা হয়েছিল।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১