রেজি তথ্য

আজ: শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

পাচার করা অর্থ ফেরতের সুযোগ অনৈতিক : টিআইবি

ঢাকা ব্যুরো:

বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের যুক্তিতে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা অর্থ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আকারে ফেরত আনার ঢালাও সুযোগ দেয়াকে অনৈতিক ও অসাংবিধানিক বলছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গর্হিত এই অপরাধের জন্য শাস্তির বদলে পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা করার এসব উদ্যোগকে অর্থ পাচারকারী তথা দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার শামিল বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেরসরকারি দুর্নীবিরোধী সংস্থাটি। সোমবার এক বিবৃতিতে অনৈতিক ও আইন পরিপন্থী এসব সুযোগ বাতিলের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থপাচার প্রতিরোধ ও পাচারকারীদের চিহ্নিত করে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগের আহবান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, পাচারকারীরাও প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের মতোই আড়াই ভাগ হারে প্রণোদনা পাবেন। একই সঙ্গে পাচার করা অর্থ ফেরাতে আসছে বাজেটে স্বল্প জরিমানা দিয়ে বিদেশে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা বা ‘ট্যাক্স অ্যামনেস্টি’। এ ধরনের সুযোগ দেয়া শুধু অনৈতিক ও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শুন্য সহনশীলতা’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীতই নয়, অসাংবিধানিকও বটে। অন্যদিকে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার যে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচারকারীদের অনৈতিক ও বৈষম্যমূলক সুযোগ দেয়া হচ্ছে, যা দেশের অর্থপাচার রোধে প্রণীত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-কে বৃদ্ধাংগুলী দেখানোর শামিল।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারকে এভাবে রাজক্ষমার ঘোষণার প্রেক্ষিতে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে চলমান মামলাসমূহের ভবিষ্যত নিয়ে শংকা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রশ্ন তুলে বলেন, অর্থপাচারের মামলায় অভিযুক্তরাও এ সুযোগ নিতে চাইলে তাদের কি কোনো শাস্তি ভোগ করতে হবে না? এক্ষেত্রে সরকার কি তবে আইনের শাসনের পথ ফেলে আপোষের পথে হাঁটবে? এসব বিষয়ে পরিস্কার ব্যাখ্যা জরুরি। এতে পাচারকারীরা অর্থ পাচারে বরং আরো উৎসাহিত হবে, অর্থ পাচার আরো গভীর ও বিস্তৃত হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১