রেজি তথ্য

আজ: মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সন্দ্বীপ লাখো মানুষের স্বপ্নের স্থায়ী বেড়িবাঁধের কাজ দৃশ্যমান

এম আর আমিন :

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের চৌকাতলী থেকে বেড়িবাঁধের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রতি বছর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিধ্বস্ত হয়ে যায়, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ভেসে যায় মাছের ঘের, প্রজেক্টসহ জমির ফসল। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। এ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা দক্ষিণ সন্দ্বীপ সারিকাইত ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রানের দাবী ছিল।স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি প্যাকেজে চলমান সন্দ্বীপের মগধরা, সারিকাইত ও রহমতপুর ইউনিয়নের ৯.৮০ কিলোমিটার সিসি ব্লকসহ বেড়িবাঁধের মাটির কাজ ও ১.২০ কিলোমিটার মাটির কাজ ২০১৭সন্দ্বীপে সরকারের মেগা এ প্রকল্পটি,২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে কয়েকটি স্পটে কাজ শুরু ।শুরুতে কয়েকটি প্যাকেজের কাজ চলমান থাকলেও ডলি কন্সট্রাকশন কোম্পানির কাজের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে মোট কাজের ৫ শতাংশ করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসীন্দাদের। ফলে বিগত তিন বছরসহ চলতি বছরও বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে ডলি কন্সট্রাকশনের কাজ বাতিল করে বিশ্বাস বিল্ডার্সের কাছে কাজ হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে বেড়িবাঁধের কাজের দৃশ্যমান দেখে কিছুটা আনন্দিত সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি কাজ যেভাবেই হোক তা যেন টেকসই হয় সেদিকে যাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি থাকে সে প্রত্যাশা করেন।এ বিষয়ে সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির বলেন, বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আগের কন্সট্রাকশন কোম্পানির গাফিলতিতে আমাদের সাধারণ জনগণের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।তবে বর্তমান বিশ্বাস বিল্ডার্স কোম্পানি,আনোয়ার ল্যান্ড মার্ক যৌথ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কাজের অগ্রগতি দেখে বেশ সন্তোষজনক মনে হয়েছে। আশা রাখি খুব তাড়াতাড়ি এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এদিকে সন্দ্বীপে বাকি অরক্ষিত বেড়িবাঁধ সুরক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নতুন একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেয়া হয়েছে যায় অধিক, ১৭.৭৪ কিলোমিটার স্হায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।উক্ত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১২০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে পাউবোর উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানান, সন্দ্বীপ স্থায়ী বেড়িবাঁধ প্রকল্পের প্রায় ৯২ শতাংশের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সমগ্র সন্দ্বীপবাসী সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে।তিনি জানান, প্রতি বছর বর্ষা ছাড়াও সন্দ্বীপ উপকুলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়। উপকুলবাসীকে রক্ষায় সরকার ২০১৭ সালে প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেন। তবে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এ প্রকল্পের প্রায় ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকী ৮ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি আমরা।পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, সন্দ্বীপ প্রকল্পে নয়টি প্যাকেজের কাজ ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকী ৮ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ হবে।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১