রেজি তথ্য

আজ: শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

বাপসা’র বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২২ উদযাপন ও পরিবেশ সন্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেক্স নিউজ

বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন (বাপসা)’র বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২২ উদযাপন ও পরিবেশ সন্মেলন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ই জুন বুধবার নগরীর শিল্প কলা একাডেমি মিলনায়তনে বাপসা’র কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক উত্তম কুমার আচার্য্যের সঞ্চালনায় ও বাপসা’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি এম এ হাসেম রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত ও সীতাকুণ্ডে নিহত শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা: মাহফুজুর রহমান (বীর মুক্তিযোদ্ধা), (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র -ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম) বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইদ্রিসআলী, প্রফেসর ড.এম.আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড:মোঃ:আলী আজাদী, প্রফেসর ড. মনজুরুল কীবরিয়া, পরিবেশবিদ ও সংগঠক মুহাম্মদ আবদুর রহমান রানা, প্রফেসর মিয়া মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন (ভিপি, চাকসু) মোঃ একরামুল করিম, প্রফেসর ড.এম এ গফুর, আ স ম রাগীব আহসান মুন্না, এডভোকেট আয়েশা আক্তার সানজী প্রমূখ। এতে পরিবেশ সুরক্ষায় সময় উপযোগী পরিকল্পনার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ফারুক আবদুল্লাহ (চীফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বদেশ) সাংবাদিক মুজিব উল্লাহ তুষার, সাংবাদিক সংগঠক বিপ্লব পার্থ,সংগঠক মাঈনুল ইসলাম, গীতিকবি লিয়াকত হোসেন খোকন, খোরশেদ আলমদার, নোমান উল্লাহ বাহার (ছাত্র ও পরিবেশ সংগঠক) সোহেল মোঃ ফকরুদ্দীন (লেখক,সংগঠক), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এনামুল হক, পরিবেশ কর্মী সংগঠক ওসমান গনি, শিক্ষিকা ও পরিবেশ সংগঠক নাসরিন এ্যাভি প্রমূখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় প্রথমে নিজেদের সচেতনতা জরুরি এবং সেই সাথে নিজ নিজ পরিবার থেকে এ আন্দোলন শুরু করতে হবে। বর্জ্য নিষ্কাশনে পরিবারের সদস্য প্রতিবেশীদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত পাহাড়কর্তন, নদী-খাল-জলা ভরাট ও দখলের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার প্রায় সবগুলোতে কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক সংশ্লেষ রয়েছে। এ বিষয়টি বন্ধ করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন- প্রকৃতির লীলাভূমি চট্টগ্রাম আজ পরিবেশের হুমকির মুখে রয়েছে বেশি। নগরায়নের নামে পাহাড় কেটে করা হচ্ছে আবাস ও বানিজ্যিক প্রকল্প। বিগত কয়েক দশকে নগরীর প্রায় ৬০ শতাংশ পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড় কেটে করা হয়েছে সড়ক / মহাসড়ক। যার ফলে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা আমাদের কাছে পুরাতন নয়। সংরক্ষণ করা হচ্ছে না পুকুর ও ডোবা, ভরাট করে ফেলা হচ্ছে পয়োনিষ্কাশনের ছোট খাল ও নালা গুলো। পরিবেশের সব দূষনই সমানভাবে চলছে। যত্রতত্র গড়ে উড়ছে মিল কার খানা। চট্টগ্রাম শহরের বায়ুর মান একেক পয়েন্টে একেক রকম হলেও তা গড়ে ঝুঁকিমাত্রা অতিক্রম করেছে আগেই। দিন দিন দূষিত হচ্ছে চাক্তাই খাল। মেরে ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীকে। ময়লা আবর্জনার ডাস্টবিন বানানো হচ্ছে এই নদীকে, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে নদীর অববাহিকা নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। রিভার ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হচ্ছে নানান অপতৎপরতায়। নদীটিকে সুরক্ষা দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেই কোন ভাবনা। এই নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। প্রভাবশালী ও দখলকাররা কর্ণফুলি নদীর দেহটি বিক্রি করে খাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের নেই সমন্বিতভাবে মাস্টার প্লান বাস্তবায়নের ব্যাপারে কার্যকর ভুমিকা। টাইগার পাসে করা হচ্ছে উড়াল সেতু যা পরিবেশের সাথে সাংঘর্ষিক। এরকম আরো কত নানা অব্যবস্থাপনা যা পরিবেশের সাথে সাংঘর্ষিক। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখায় উপস্থিত পরিবেশবিদ, পরিবেশ সংগঠক-কর্মী-বন্ধুদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সেই সাথে পরিবেশ বিষয়ক রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় কৃতীদের মাঝে কৃতিত্ব স্মারক তুলে দেন। পরিশেষে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণ করেন বেতার ও টিভি শিল্পী শহীদ ফারুকী,শারমিন হোসেন, সুপ্রিয়া লাকী, মনি সেন, জুলি, আইরিন আক্তার ও সমীর পাল।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১