রেজি তথ্য

আজ: বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

পাহাড়ে অবৈধ বসতি থাকতে পারবে না যতই ক্ষমতাশালী হোক

এম আর আমিন :

পাহাড়ের অবৈধ বসতি কীভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দেওয়া হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজের সচেতন নাগরিক সমাজ।জঙ্গল সলিমপুরে দুর্গম পাহাড়ে গত এক যুগ ধরে দুর্গম এ পাহাড় কেটে দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে দখলদাররা। পুরো এলাকাকে ১১টি সমাজে ভাগ করে ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ নামে সমিতি বানিয়ে ২০ হাজার মানুষকে অবৈধ বসতি গড়ার লাইসেন্স দিয়েছে দখলদাররা।সীতাকুণ্ড জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সম্প্রতি এক মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।স্পোর্টস কমপ্লেক্স, কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে, মডেল মসজিদ হবে, আইকনিক মসজিদ, জাতীয় তথ্যকেন্দ্র, নভোথিয়েটার ও ইকোপার্ক হবে। জঙ্গল সলিমপুরে কেউ অবৈধভাবে থাকতে পারবে না। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে যারা মামলা মোকদ্দমা করছেন তাদের বলতে চাই, সরকারের চেয়ে ক্ষমতাশালী কেউ নেই। জঙ্গল সলিমপুরে যারা বসবাস করছেন, তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে নানাভাবে পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা। পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি করা হয়। বসতি গড়ে তোলা হয়। এর বাইরে বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঢালুতে ঘর তৈরি করে অবৈধভাবে বসবাস করে নিম্ন আয়ের মানুষ। জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই এই জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন। পাহাড়ধসে ২০০৭ সাল থেকেএ পর্যন্ত পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চট্টগ্রামে ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্র জানায়, পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা রোধে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০০৭ সালে পাহাড়ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির পর বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠন করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) সদস্য সচিব করে গঠন করা হয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ পর্যন্ত ২৭টি সভা করেছে কমিটি।প্রতিটি সভায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করেন তাদের উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বসবাসকারীদের বাসায় অবৈধ ইউটিলিটি সার্ভিস অর্থাৎ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির সর্বশেষ সভা হয়েছে গত ২৭ মার্চ। কমিটি ২৮টি কারণ চিহ্নিত করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করলেও একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি।ফলে এখনও বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। বাড়ছে পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঝুঁকি, ৩৬ সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শুধু নিজেদের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করে সময় পার করছে। তাদের কর্মতৎপরতাও সীমাবদ্ধ থেকেছে লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশের মধ্যে ছিল পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকা, নীতিমালা প্রণয়ন, পাহাড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া এবং সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা, বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা, পাহাড়ের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা তৈরির অনুমোদন না দেওয়া, পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে হাউজিং প্রকল্প না করা, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক ও উন্নতমানের সরঞ্জামাদি ক্রয় করা।এছাড়া পাহাড়ধস এড়াতে এবং পাহাড় ব্যবস্থাপনার সভায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাহাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি মালিকানাধীন ঝুঁকিপূর্ণ যেসব পাহাড়ে অবৈধ বসতি সেগুলো উচ্ছেদ করা। তদন্ত কমিটির এসব সিদ্ধান্ত এখনও কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, কমিটি জরিপ চালিয়ে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় চিহ্নিত করেছে।বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলিউর রহমান বলেন, ২০০৭ সালে পাহাড়ধসের পর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির ৩৬ সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি।পাহাড়ে অবৈধভাবে গড়া বসতিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় ব্যক্তিরা।পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন,পাহাড় রক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই।ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে পাহাড়ে ভূমিদস্যু মূল হোতারা। আর পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস বলেন,সরকারি কয়েকটি দপ্তরের আন্তরিকতার অভাবে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরানো যাচ্ছে না।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন,পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে অভিযান বছরজুড়েই চলে। এরপরও তারা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের তালিকা করে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।তবে স্থায়ী পুনর্বাসন না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের জন্য সাড়ে ছয় হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্প রয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১