রেজি তথ্য

আজ: বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

আতঙ্ক নুরু: মামলা নিচ্ছে না পাঁচলাইশ থানা

ইসমাইল হোসেন

দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলামের ভয়ে কাবু স্বয়ং সিএমপির পাঁচলাইশ থানা! এই দাপুটে শ্রমিক নেতার ভয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গ্রহণ করছেনা পুলিশ। নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুই দফা হামলা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে দু’দিন ধরে থানায় ঘুরে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন একজন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী সুজন জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম লোকজনসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার দোকানে আসেন। তাকে দোকানে না পেয়ে তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সুজন উপস্থিত হলে তার উপর হামলা করেন শ্রমিক নেতা। আশেপাশের লোকজন জড়ো হওয়ায় সে প্রাণে বেঁচে যায়। নুরুল ইসলাম অবৈধভাবে তাদের পলিটেকনিক্যাল মোড়স্থ ওয়াসা মার্কেটের দোকানটি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সুজন।

সুজন বলেন, ঐদিন লোকজন উপস্থিত না থাকলে সে আমাকে জানে মেরে ফেলত। ইতিপূর্বে আরও একদিন আমার দোকান লুটপাট ও আমার উপর হামলা করেছিল এই শ্রমিক নেতা। আমরা ওয়াসার সাথে চুক্তি করে দোকানটি লিজ নিয়েছি। সে অবৈধভাবে এটি দখল করার চেষ্টা করছে। আমি সর্বশেষ শুক্রবারও (১৬ সেপ্টেম্বর) পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করতে চেষ্টা করছি। পুলিশ তার ভয়ে মামলা নিচ্ছেনা।

অভিযোগ আছে, এই শ্রমিক নেতা চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মচারী ছিলেন। ওয়াসার সম্পদ লুটপাটের দায়ে দন্ডিত ও চাকরি থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। জেল থেকে বের হয়ে বড় নেতা বনে যান। ফাঁকফোকড় খুঁজে একে একে দখল করতে থাকেন ওয়াসার ভূসম্পত্তি। চালাতে থাকেন মামলা-হামলা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ ও হালিশহরে ওয়াসার শতকোটি টাকার মার্কেট তার দখলে। সেখান থেকে অবৈধভাবে নিয়মিত ভাড়া তোলেন তিনি। গড়েছেন সম্পদের পাহাড়! তার ভয়ে মুখ খুলছেন না ওয়াসার কেউ।

ওয়াসা এমপ্লয়িজ কোওপারেটিভ সোসাইটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বলেন, নুরুল ইসলাম ওয়াসার কর্মচারী থাকাকালীন ওয়াসা কোওপারেটিভ সোসাইটি থেকেই লুটপাট করেছেন ৯৫ লাখ টাকা। এছাড়া ওয়াসা থেকে লুটপাট করেছেন কোটি কোটি টাকা! এসব প্রমাণিত হওয়ায় তিনি দন্ডিতও হয়েছেন। আমার কাছে সব তথ্য প্রমান আছে। আমরা ইতিপূর্বে তার দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলাম। কিন্তু সে থানা, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলেছে।

অভিযোগের বিষয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ সাদিক মামলা না নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। তাই মামলা নিইনি। অভিযোগটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক খালেদ। আমি তার সাথে কথা বলতে বলছিলাম।

তবে, ভুক্তভোগী সুজনের অভিযোগ, উপপরিদর্শক খালেদ বিবাদীর দ্বারা ম্যানেজ হয়ে গেছেন। খালেদ বিবাদীর হয়ে কাজ করছেন। তিনি তাকে কৌশলে চাপে রেখেছেন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১