রেজি তথ্য

আজ: শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

ভারতবর্ষ তথা বাংলাদেশের পরাধীনতার ইতিহাস

সমর্পিতা দত্ত

—  হীরাঝিল বাঁচাও আন্দোলন কর
‘ Let me make it very clear to you, it is no doubt that the state language of Pakistan is going to be Urdu and no other language…’ জিন্না সাহেবেরএই পরিষ্কার বক্তব্যটা কে ধোপে উড়িয়ে দিয়ে গর্জে উঠেছিল বাংলা। যার কেন্দ্রের বিষয় ছিল ‘ভাষা’। শুধুমাত্র কথা বলারই তো মাধ্যম। কিন্তু এই ভাষাকে কেন্দ্র করে এত বিরাট মাপের আন্দোলন, লড়াই দেখেছিল গোটা বিশ্ব।
দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে তার নিজের সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছিল।
আজ এতগুলো বছর পর সম্পূর্ণ ঘটনাটাকেই রূপকথার মত মনে হতেই পারে। কিন্তু লাখ লাখ মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই রক্ত ঝরানো ইতিহাস একটা মানব প্রজাতির কাছে অন্য এক সংগ্রামের ইতিহাস রচনা করেছে। মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান, তার দাম যে দিতে হয়, গোটা বিশ্বের কাছে এই উদাহরণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ।
স্বাধীন ভারতের  নাগরিক হিসেবে সেই দেশের সমস্ত সুবিধা সুযোগ নেবার পরেও, আজকের তারিখে দাঁড়িয়ে অখন্ড ভারতবর্ষের অভাব ভীষণ ভাবে বোধ করি। বিশেষ করে অখন্ড বাংলার তো বটেই। ইংরেজি, হিন্দি কিংবা যেকোনো বিদেশি ভাষাকে রপ্ত করার ইচ্ছে থাকলেও বাংলায় কথা বলার যে আনন্দ তা কিন্তু কতকটা বাড়ির বিছানায় ঘুমোনোর  মতোন। একদম নিজের। সেই ভাষাটা ছাড়া কিছুতেই যেন নিজের ভাব প্রকাশ করা যাবে না আর কোনও মাধ্যম দিয়েই। সে একই ভাষায় কথা বলা মানুষগুলো আলাদা, অন্য দেশ, কাঁটাতার আলাদা করে রেখেছে তাদের। কতকটা একই রচনার দুটো পরিচ্ছেদের মত, পড়ে রয়েছি দুদিকে। অথচ রচনাটা একই।
ভারতবর্ষ অর্থাৎ অখন্ড ভারতবর্ষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে প্রচুর। শেষাবধি জিৎ হলেও কূটনীতির চালে খন্ড খন্ড হয়ে গেল ভারতবর্ষ নামের সেই বিরাট ভূখণ্ড। যে ভারতের মহিমা সত্যিই অপার।
আমাদের গর্ব হয়, এই স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ভারতবর্ষের মাটিতে জন্মেছেন কত বীর, কত মেধাবী মানুষ, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। পৃথকভাবে দীর্ঘদিন লড়াই করার পরে তাদের বিজয়ের দিন দেখার জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন কত মেধা, কত দেশ মায়ের সন্তানেরা।
ভারতের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের পৃথকভাবে স্বাধীন হয়ে ওঠা,  সর্বোপরি এই বিজয়ের দিনগুলো দেখতে বা তার গল্প শুনতে রোমাঞ্চ হয়, বুক ভরে ওঠে গর্বে। এভাবেও লড়াই করা যায়? গোটা পৃথিবী যে লড়াইয়ের কাছে  মাথা নুইয়েছে। সেক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথাতে অনায়াসেই চলে আসে স্বাধীনতার ইতিহাসে সবথেকে বেশি যোগদান করেছিল বাংলার মানুষ অর্থাৎ বাংলার মাটি বারবার কোটি কোটি ভয় হীন জিনিয়াসদের জন্ম দিয়েছে। অথচ সেই উচ্চ মেধার মানুষগুলি নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে দিতেই জীবন পাত করে দিলেন। সংগ্রামের পর সংগ্রাম, এই মাটিকে শুধুই রক্ষা করার জন্য। যদি সেই অস্তিত্বের সংকট না থাকতো, যদি পরাধীনতার শৃংখল মোচন করতে না হতো, কিংবা নিজের মুখের ভাষার অধিকারটুকুও সহজতর হতো তাহলে দেশের উন্নতিকল্পে অনেক বেশি মেধাশ্রম ব্যয় করে মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন সেই সমস্ত লড়াকু যোদ্ধারা। কিন্তু এসব কিছুই হলো না। লড়াই। অস্তিতের লড়াই। পদদলিত না হয়ে থাকার লড়াই। চরম অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই। মানুষ হিসেবে সম্মান পাওয়ার লড়াই। অখন্ড ভারতবর্ষের ইতিহাস তো কম বড় নয়। আর অবিভক্ত বাংলার? সেও এক বিরাট ব্যাপার। আর সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে আসল ক্ষত।
২৬৫ বছর আগের ঘটনা। মাত্র ২৬৫। ‘পলাশীর যুদ্ধ’। এই একটা ঘটনা এবং তার পরবর্তীকালে বিরাট পট পরিবর্তন, একটা বিরাট ভূখণ্ড কে ভেঙে চুরে তছনছ করে দিল। সিংহাসন নিয়ে লড়াই কোন নতুন বিষয় নয় ঠিকই। সিংহাসন থাকলে লড়াইও থাকবে, কিন্তু সেই লড়াই যদি একটা গোটা ভূখণ্ডের কোটি কোটি প্রাণকে কেড়ে নেয়, দীর্ঘদিনের জন্য সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয় অসহায় সাধারণ মানুষকে তাহলে সেটা লড়াই নয়, সেটা ভুল।
আজ পলাশীর ২৬৫ বছর পর বলতে বাধ্য হচ্ছি পলাশীর যুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধে নবাব মির্জা মোহাম্মদ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় গোটা জাতির পরাজয় ছিল। সেদিন সেই ২৪ বছরের যুবকটির সঙ্গে (মতান্তরে ২৭) দু’ এক জন শুভাকাঙ্ক্ষী ছাড়া আর তেমন কেউ ছিলেন না। নবাব সিরাজ কেমন ছিলেন? তাঁর চরিত্র কেমন ছিল? এসব নিয়ে আজও যাঁরা ভীষণ ব্যস্ত তাঁদের উদ্দেশ্যে এটুকুই বলার দিল্লির বাদশা যে বিষয় অনুমান করতে পারেননি, ফারুকশিয়ার কোম্পানিকে ব্যবসা করার ছাড়পত্র দেওয়ার সময় যে ভাবনার কল্পনাও করতে পারেননি, মুর্শিদকুলি থেকে আলীবর্দী খান যে বিষয়টাকে গা সওয়া করে নিয়েছিলেন, জগত শেঠ, উমিচাঁদ, রায় দুর্লভ, রাজবল্লভ, কৃষ্ণ বল্লভ, ঘসেটি বেগম, ইয়ার লতিফ, মীর জাফর এনাদের মত বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরা সহজেই যে স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেন, অথচ দেখতেই পেলেন না ভবিষ্যতের পরাধীন বাংলা তথা ভারতবর্ষের সেই ভয়াবহ চিত্রকে অথচ সেটি সহজে অনুধাবন করে, যে সিরাজকে নিয়ে এত আলোচনা, সেই তিনিই কিন্তু প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুললেন।এখন বহু মানুষ প্রশ্ন করবেন ‘তিনি কি দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য করেছিলেন? তা তো নয়। সিংহাসন রক্ষা করার জন্য তিনি লড়েছিলেন।
আবার অনেকে বলবেন, তখন তো ভারতবর্ষ পরাধীনই ছিল, মুঘল শাসন। দুটোই সত্য। সিরাজ সিংহাসন রক্ষার জন্যই লড়াই করেছিলেন। তিনি মনে করতেন এই সিংহাসন, এই অবিভক্ত বাংলা তাঁরই। তাঁর এরকম কোন পরিকল্পনা ছিল না যে এই বাংলার থেকে সমস্ত কিছু লুট করে নিয়ে সমস্ত মানুষের উপর চরম অত্যাচার করে তিনি অন্য কোথাও চলে যাবেন। কারণ ভারতবর্ষ তথা বাংলাকে নিজের দেশ বলেই মনে করতেন নবাব সিরাজ এবং মোঘল শাসকেরা।
এখন বিষয়টা হল নবাব সিরাজকে সরানোর জন্য সকলে মিলে উঠে পড়ে লাগলেন। শুধু ক্ষমতা ভোগ করার জন্য ঠিক কাদের থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করলেন তা এতগুলো পাকা মাথা বুঝতে পারলেন না। তখন শুধুমাত্র লক্ষ্য ‘অবাধ্য সিরাজকে’ শিক্ষা দেওয়া। তাঁর শেষ দেখাটাই যেন একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ালো। যে কারণে এতগুলো বিচক্ষণ মানুষ কোন কিছুই বুঝতে পারলেন না। অনুধাবন করতে পারলেন না। সম্পূর্ণ বিদেশী ব্যবসায়ীদের মহার্ঘ্য ভেবে বসলেন।
নবাব সিরাজ ঠিক কেমন ছিলেন এই বিষয়গুলো থেকেই সহজেই বোঝা যায়। যখন তাঁকে দমন করার জন্য এতগুলো মানুষের আর কোনও চিন্তা মাথায় এলো না তখন এক কথাতেই বোঝা যায় এঁনারা কেউ রাজনীতিতে পারদর্শী ছিলেন না কিংবা দূরদর্শিতার অভাব ছিল, অথবা নিজেদের উপর আস্থা ছিল চরম। সেই আস্থা এতটাই চরমে পৌঁছল যে নিজেদের প্রাণটাও হয়ে উঠল ওষ্ঠাগত। কেউ টিকতে পারলেন না। ক্রমশ একের পর এক মৃত্যু, পুতুল নবাবি, দ্বৈত শাসন, দেওয়ানি লাভ এবং পাকাপাকি পরাধীনতা।
যার মাশুল চোকাতে কোটি কোটি মায়ের কোল শূন্য হয়েছে। নবাব সিরাজ চরিত্রহীন কি চরিত্রবান সেই বিষয়টা একটু আমরা পরেই না হয় ভাবি। তিনি যে দূরদর্শী ছিলেন সেই বিষয়ে প্রশ্ন চিহ্ন থাকতে পারে বলে মনে হয় না। আজ স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও কেন তিনি প্রাসঙ্গিক, কেন আজও আমরা অর্থাৎ ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট’ তাঁর স্মৃতি সুরক্ষার চেষ্টা করে চলেছেন অনবরত, সে প্রসঙ্গে একটু আসি। ভারতবর্ষ তথা বাংলাদেশের পরাধীনতার ইতিহাস এবং লড়াইয়ের ইতিহাস রচনা হতোই না যদি সেদিন বয়সে কাঁচা ছেলেটিকে হিংসে না করে তাঁর পাশে এসে দাঁড়াতেন সেই সমস্ত মানুষরা যাঁরা বেইমান বলে চিহ্নিত। এবার এক লাইনে সারবো তাঁরা কেন বেইমান। তাঁরা বেইমান কারণ, নবাব সিরাজ কে সহযোগিতা না করে হত্যা করিয়ে বাংলা তথা দেশকে সামলাতে পারলেন না বলে। একটা সামান্য কোম্পানির কাছে বিকিয়ে দিলেন নিজেদের। তাঁরা বেইমানি করলেন অখন্ড ভারতবর্ষের মানুষের সঙ্গে। তাই তাঁরা চিরকালীন বেইমানই হয়ে থাকবেন।
কেন নবাব সিরাজকে নিয়ে আর তাঁর স্মৃতি সুরক্ষিত করার জন্য আমাদের লড়াই আজ এই ‘বিজয়ের মাসে’ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিই।
অখন্ড ভারতবর্ষের প্রথম মানুষ তিনিই যিনি বুঝতে পেরেছিলেন শুধু নয় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এই তীক্ষ্ণ বুদ্ধির কোম্পানির বাহিনীর বিরুদ্ধে।
শেষ অবধি চেষ্টা করেও অসহায়ের মতো নিজের প্রাণ দিলেন মুর্শিদাবাদের জমিনে, অস্ত্রহীন বন্দি অবস্থায়।
তিনি সহজেই কোম্পানির সঙ্গে সৎ ভাব রেখে চলতে পারতেন। দ্বিচারিতার অভাব ছিল তাঁর চরিত্রে। তিনি নিজেকে প্রকৃত নবাব মনে করতেন, সেক্ষেত্রে সততার অভাব তাঁর চরিত্রে কখনো দেখা যায়নি। Col. MALLESON সেই কারণে সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে বলছেন, ‘ whatever may have been his faults, sirajuddaula has neither betrayed his master Nor sold his country.’
পলাশীর যুদ্ধের দিনটা একটু অন্যরকম হলে, আজ ভারতবর্ষের ইতিহাসটাই পাল্টে যেত। শুধু এতেই থেমে থাকেনি সকলে। তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করে, গোটা ভূখণ্ডকে ডুবিয়ে তারপর দেশটাকে বিক্রি করে দিয়ে নিজেরা পরাধীন হয়ে বসে রইলেন। নবাব অথচ ‘very obedient . এরপর শুরু হল সাধারণ মানুষের মন থেকে সিরাজদ্দৌলাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। সমস্ত স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস হতে শুরু হলো, তাঁকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য শুধু নয়, তাঁকে খুব খারাপ ভাবে মনে রাখার জন্য লেখা হতে শুরু হল অনেক অনেক বই। যে বইয়ের বিষয়বস্তু গুলি হল শুধু সিরাজ কতটা খারাপ মানুষ ছিলেন তার বিভিন্ন রকমের অনন্য ব্যাখ্যা। নানান মনগড়া কাহিনী।
প্রথম প্রতিরোধ গড়তে চেয়ে অকালে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে নবাব সিরাজ বেঁচে রইলেন ‘বদনামে’। তাঁর বংশধরেরা কেউ মরে গেল, কিছু মানুষকে মেরে ফেলা হলো, কিছু মানুষ পালিয়ে গেলেন, পরিচয়হীন অসহায়ের মতো বেঁচে রইলেন পরাধীন ভারতবর্ষের বুকে বিভিন্ন প্রান্তরে। দেশ তখন অন্যের হাতে। সিংহাসন লাভের লোভ করার মত দেহে প্রাণ নেই। সাধারণ মানুষ মরছে অত্যাচারে। দেশ গঠনের কাজে যাঁদের প্রয়োজন ছিল তাঁরা নামলেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশ মাতৃকার শৃঙ্খল মোচনের জন্য। কিন্তু এই সময় কার কথা মনে পড়ল সকলের? কে হয়ে উঠলেন সেই সময়ে জাতির প্রতীক? আবার সেই নবাব সিরাজ। তাঁকে আবার টেনে আনা হল। এবার বোধহয় সবাই বুঝলো কেন তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
হত্যা হয়ে যাওয়া সেই নবাব কে সামনে রেখে নতুন ভাবে আন্দোলন শুরু করলো আপামর বাঙালি। পারস্যের রক্ত যার শরীরে সেই মানুষটাই হয়ে উঠলেন বাঙালীদের আইকন। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং তার বিজয় বিভিন্নভাবে এ অধ্যায়গুলো শেষ হলো। স্বাধীনতার স্বাদ পেল ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ। পৃথক পৃথকভাবে। স্বাধীন আমরা হলাম, কিন্তু গোড়ায় গলদ থেকেই গেল। খন্ড খন্ড করে দিল আমাদের একান্নবর্তী পরিবারটাকে। হয়ে গেলাম ‘ওরা’ এবং ‘আমরা’।
কিন্তু কিছু কিছু বিষয় ‘আমাদের’ হয়ে রইল। যেমন আমাদের বাংলা ভাষা, আমাদের প্রধান খাদ্য, জল হাওয়া, ভাবনা চিন্তা, আর নবাব সিরাজউদ্দৌলা। তিনি তো সেই অখণ্ড স্বাধীন অবিভক্ত বাংলার প্রতীক। যখন আমরা এক ছিলাম।
আজও মুর্শিদাবাদের প্রতিটা ঘরে তাঁর নামে ভাতের হাড়ি চড়ে। প্রতিবছর বহু মানুষ আসেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুর্শিদাবাদের জমিনে নবাব সিরাজের স্মৃতি বিজড়িত শহরটাকে দেখতে, তাঁর গল্প শুনতে, যাঁরা বাঙালি। কয়েকটা নাম রয়েছে যেখানে ভারতবর্ষ, বাংলাদেশকে আলাদা করা যায় না যেমন বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্লচাকি নেতাজি, সূর্য সেন, বিনয়, বাদল, দীনেশ। এঁদের সবারই শুরুটা ওই  একটাই নাম,’নবাব সিরাজউদ্দৌলা’।
আজ যখন উন্নতির হাওয়া চারিদিকে বইছে, যখন একটা সুযোগ রয়েছে দুটো দেশকে একটা জমির উপর দাঁড় করানোর সে চেষ্টাটা আমরা করি না কেন?
সেই জমিটা হল নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিত্যক্ত প্রাসাদ মনসুরগঞ্জ, হীরাঝিল। সবকিছু নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টার পরেও আজও সেই প্রাসাদ তার শেষ ভগ্নাংশ টুকুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে নবাবের ইতিহাস বুকে নিয়ে। আজ যে নবাব মুর্শিদাবাদের লাখো লাখো মানুষের অন্ন জোগাচ্ছেন, তাঁকে  ঘিরে পর্যটন শিল্প এই জেলায় চরম সাফল্যতার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই নবাবের স্থান হাজারদুয়ারির prince gallery-র দরজার পিছনে। তাঁর একমাত্র ছবি  স্থান পেয়েছে সেখানেই। তাঁর সমাধি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধীনে থাকলেও বেশ অযত্নে সঙ্গেই পড়ে থাকে অসহায়ের মতো। আর তাঁর প্রাসাদ প্রতি বছর ভেঙে চলেছে।
‘নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট’ অখন্ড বাংলার মানুষের কাছে এক হওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছে। নবাব সিরাজের প্রাসাদ সমস্ত কাঁটাতারের বিভেদ ভুলে একসঙ্গে সংরক্ষণের দাবী জানাবো আমরা অখন্ড বাংলার মানুষ। সেই সুবাদে ওই প্রাসাদেরই একাংশে শহীদ মিনার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সুউচ্চ শহীদ মিনার গঠিত হবে নবাব সিরাজ এবং 1757 থেকে 1971 অব্দি সমস্ত শহীদদের স্মৃতিতে। অবিভক্ত বাংলার মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন দাগ কাটতে পারেন। পুনরায় এক হতে পারেন তাঁদের প্রিয় নবাবের স্মৃতি সুরক্ষিত করার জন্য।
আমাদের বিশ্বাস আমরা এই কাজে সফল হবই। সিরাজউদ্দৌলা ভারতবর্ষের তথা পশ্চিমবঙ্গের একার নয়। তাঁর উপর অধিকার রয়েছে অবিভক্ত বাংলা তথা স্বতন্ত্র দেশ বাংলাদেশেরও। বর্তমানে খুলনায় বসবাসকারী নবাবের নবম প্রজন্ম তাঁদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এভাবে যদি গোটা অবিভক্ত বাংলা এক হতে পারে তাহলে বাঁচবে এক ক্ষয়ে যাওয়া ইতিহাস।
‘মাতৃভাষা’ কি জিনিস তা দেখে ফেলেছে গোটা বিশ্ব। ইতিহাস গড়ে দিয়েছে, এক অনন্য। এবার অবিভক্ত বাংলার এক হওয়ার পালা। ‘নবাব সিরাজদৌলার স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট’ স্বপ্ন দেখে সেই অবিভক্ত বাংলা একত্রিত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে নবাব সিরাজের সুরক্ষিত সংরক্ষিত প্রাসাদ মনসুরগঞ্জ হীরাঝিলে। আর এই নজিরবিহীন দৃশ্যের প্রতীক হিসেবে আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ‘হীরাঝিল শহীদ মিনার’ ‘ইতিহাসে গরমিল/জেগে ওঠো  হীরাঝিল’
লেখক: – সমর্পিতা দত্ত
সভাপতি
নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১