রেজি তথ্য

আজ: মঙ্গলবার, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

১৪ বছর বাংলাদেশের অগ্রগতির কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার চট্টগ্রাম বন্দর

ডেক্স নিউজ

বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড ও জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়লো ২০০ মিটার লম্বা ‘কমন অ্যাটলাস’। ১৬ জানুয়ারি (সোমবার) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আয়োজিত নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বেলুন উড়িয়ে জাহাজ বার্থিং কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোদন করেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের ভাণ্ডার ভবন এলাকায় নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তলাবিহীন ঝুড়ি যারা বলেছে তারা শুধরে নিচ্ছে। এখন দাতা গোষ্ঠী আমাদের পেছনে পেছনে ঘুরছে। চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও বন্দর আইন দ্বারা পরিচালিত।

নৌ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ১০ মিটার ড্রাফট নিশ্চিত করতে পেরেছি। এটি দেশের জন্য গর্ব ও অহংকারের। আমাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অন্য রকম। জাতির পিতাকে যখন বিভিন্ন দেশে যাওয়ার অপশন দেওয়া হয়েছিল তিনি যুক্তরাজ্য বেছে নিয়েছিলেন। দেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বন্দরের ইতিহাসেও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা রয়েছে। বন্দর থেমে গেলে দেশ থেমে যায়। পদ্মা সেতুতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা আছে। ১৪ বছর বাংলাদেশের অগ্রগতির কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের অংশীজনদের দাবি সরকার গুরুত্ব দেয়। ১৮টি গ্যান্ট্রি ক্রেন এ বন্দরে। ৪৮ ঘণ্টায় একটি জাহাজ হ্যান্ডেল হচ্ছে। দ্রুততার সঙ্গে পিসিটি চালু করতে পারবো। এছাড়াও বে টার্মিনালে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ করবে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ২০২৫ সালের শেষদিকে বা ২০২৬ সালের শুরুতে এর কার্যক্রম চালু করতে পারবো।

গেস্ট অব অনার ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, এটি চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক দিন বা মাইলফলক বলা যায়। ২০০ মিটার লম্বা বড় জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর ফলে বাংলাদেশের আমদানি রফতানিতে আরও গতি আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, করোনাকালে ৫৪ জন লোক মারা গেছে কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়নি। দেশের জন্য তারা প্রাণ দিয়েছেন। সরকারের শেষ বছর। তখন বিভিন্ন দাবি, উস্কানি শুরু হয়। সাপ্লাই চেইন সবার জন্য। বে টার্মিনাল করতে যাচ্ছি। আমরা একদিনের জন্যও কাজ থামাইনি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে স্মার্ট। পোর্টও হবে স্মার্ট। এর জন্য স্মার্ট টিম চাই। মাতারবাড়ী, বে টার্মিনাল, চট্টগ্রাম বন্দর একসঙ্গে অপারেশন করলে জাতীয় আয় বাড়বে।

সভাপতির বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, আজকের এইদিনটি চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ঐতিহাসিক একটি দিন । যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ‘কমন অ্যাটলাস’ যার ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার ড্রাফটের এই জাহাজ ভিড়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বন্দরকে মাইনমুক্ত করে চালু করেছিলেন। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রসীমা জয় করেছেন। বে টার্মিনাল জাতির একটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক চাহিদা এর ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। করোনার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ত্রি মিলিয়ন কনটেইনার অপারেশন ক্লাবে অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছি। বন্দর ব্যবহারকারী ও দেশকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশের জাহাজ মালিকরা বড় বড় জাহাজ নিয়ে আসছেন এর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। করোনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর একমুহূর্তও বন্ধ ছিল না। সব কৃতিত্বের মূল দাবিদার আমাদের শ্রমিকরা। করোনার মধ্যে তাদের মুখে না শুনিনি।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক হাইড্রোলিক সংস্থা এইচআর ওয়েলিংফোর্ডের প্রতিনিধি ড. মনজুরুল কাদের বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এ স্টাডি ছিল চ্যালেঞ্জিং। করোনার কারণে এটি আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল। আজ বড় জাহাজ ভিড়েছে এটিই বাস্তবতা।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, বহির্নোঙরে যে কার্গো লাইটারিং হয় সেই জাহাজগুলোকে এ সুবিধা দিলে ৪০-৪৫ হাজার টন পণ্য আনতে পারবে। গুপ্ত খাল খনন করা হলে আরও বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আমাদের যে চুক্তি করতে হয় তার আর প্রয়োজন হবে না। বড় জাহাজের পাশাপাশি ছোট ফিডার জাহাজ বার্থিংয়ের সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে। কনটেইনার জাহাজের পাশাপাশি বাল্ক জাহাজকেও সুবিধা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নব্বই দশক ও এর আগে অনেক দুঃসময় কাটিয়েছিল। গত ১৪ বছর একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এমনকি করোনাকালেও এক ঘণ্টার জন্যেও বন্ধ ছিল না এই বন্দর । যদিও এনসিটি তৈরির পর প্রায় চার বছর কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি। পিসিটি তৈরি আছে, যত তাড়াতাড়ি চালু হয় তত মঙ্গল।

চেম্বার সভাপতি আরো বলেন, কর্ণফুলী নদী বন্দরের প্রাণ। এ বন্দর সচল রাখতে কর্ণফুলী ড্রেজিং চালু রাখতে হবে। মামলাও থাকবে-হামলাও থাকবে, ড্রেজিং বন্ধ করা যাবে না। বে টার্মিনালের কাজ কখন শুরু হবে নৌ প্রতিমন্ত্রীর মুখে শুনতে চাই। বে টার্মিনাল হলে বাংলাদেশকে ৫০ বছর বন্দর নিয়ে ভাবতে হবে না।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে বন্দরে ১৬০ মিটার লম্বা ও সাড়ে ৭ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানো হতো। ১৯৮০ সালে তা বাড়িয়ে ১৭০ মিটার লম্বা ও ৮ মিটার ড্রাফট করা হয়। ১৯৯০ সালে ১৮০ মিটার লম্বা ও সাড়ে আট মিটার ড্রাফটে উন্নীত করা হয়। ১৯৯৫ সালে ১৮৬ মিটার লম্বা ও ৯ দশমিক ২ মিটার ড্রাফট করা হয়। ২০১৪ সালে ১৯০ মিটার লম্বা ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানো শুরু হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email
Share on pinterest
Pinterest
Share on reddit
Reddit

Discussion about this post

এই সম্পর্কীত আরও সংবাদ পড়ুন

আজকের সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা

সংবাদ আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১